বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বিশ্ব নদী দিব উপলক্ষে গলাচিপা “নেঙর” আয়োজনে রামনাবাদ নদী পরিদর্শন তালা প্রতীক নিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে মাসুদ আলম খান। দক্ষিণ এশিয়া বিজনেস এ্যাওয়ার্ড পেলেন এস.এম জাকির হোসেন এম ভি আল ওয়ালিদ-৯ লঞ্চে সন্তান প্রসব, পরিবারের জন্য আজীবন ভাড়া ফ্রী গলাচিপার কৃতি সন্তান মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি হওয়ায় আনন্দ মিছিল ও বিভিন্ন সংগঠনের অভিনন্দন। রাজৈরে ভোটঘর সোশ্যাল ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং উদ্বোধন মুন্সীগঞ্জে পুলিশের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মানিকগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চাঁদমারিতে সংঘাত-রক্তপাত, বেপরোয়া আলামিন বাহিনীর বিরুদ্ধে তিন মামলা জেলা পরিষদ নির্বাচনে কামরুলকে প্রার্থী করতে ইউপি সদস্যদের জোট

ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের স্রোত

পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কয়েকদিন আগে থেকে মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার ঘরমুখী মানুষের খুব একটা চাপ না থাকলেও রেল স্টেশনে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও বাস ও লঞ্চে তেমন যাত্রীর চাপ দেখা যায় নি। তবে ফেরিঘাটে ঘরমুখী মানুষের স্রোত দেখা গেছে।

রাজধানীর কমলাপুর, বিমানবন্দর রেলস্টেশনসহ, মহাখালী, গাবতলী, সায়দাবাদ, শ্যামলী, কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড ও সদরঘাট লঞ্চঘাটে ঘরমুখী মানুষের যেন ছিল স্রোত। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই ভিড় থাকবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পরিবার- পরিজন নিয়ে বাস, ট্রেন ও লঞ্চের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কাউকে কাউকে আবার টিকিটের খোঁজও করতে দেখা গেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনেও সূচি মেনে চলতে পারেনি ট্রেন। পরিবার নিয়ে কমলাপুর স্টেশনে এসে যাত্রীদের রোজা আর গরমের মধ্যে অপেক্ষায় থাকতে হয়।

সকাল ৭টায় সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। ট্রেনটি কমলাপুর ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের কিছু সময় পর।

সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে নীলসাগর এক্সপ্রেসের নীলফামারীর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পর সকাল ৮টা ৫২ মিনিটে যাত্রা শুরু করে সেই ট্রেন। সকাল ৬টায় মহানগর এক্সপ্রেসের চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেটিও স্টেশন ছাড়ে নির্ধারিত সময়ের পরে। এছাড়া সকাল ৯টা ২০ মিনিটে রংপুর এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও দেরী হওয়ায় বিকল্প হিসেবে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ছেড়ে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। যদিও এখন পর্যন্ত ‘বড় ধরনের’ শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য।

রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা এবং কমলাপুরের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি কিছুটা বিলম্বে ঢাকায় এসেছে। আবার ৩০ মিনিটের মধ্যেই আমরা ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দিয়েছি। অন্য সময়ের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি যাত্রীর চাপ রয়েছে এই ট্রেনে। যেখানে আমাদের যাত্রাবিরতিতে দুই মিনিট স্টপেজ থাকার কথা, যাত্রী বেশি হওয়ার কারণে সেখানে বেশি সময় লাগছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যাতে সময়মত স্টেশন থেকে ট্রেনগুলো ছেড়ে যায়। যাতে যাত্রীরা কম ভোগান্তিতে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন।’

আমিনুক হক বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কমলাপুর থেকে ১৮টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে গেছে। সারা দিনে মোট ১১৮টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করবে।

কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের জন্য সকাল ৮টা থেকেই স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন মিরপুরের বাসিন্দা তাফসির ইহতেশাম। তিনি বলেন, ‘গত ঈদও বাড়িতে করতে পারিনি। এই ঈদে যদি বাড়িতে যেতে না পারি, তাহলে সেটা কষ্টের ব্যাপার হবে।’

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের যাত্রী শারমিন জাহান বলেন, ‘ঈদে সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই চলে এসেছি। ট্রেনটা যে ভালোয় ভালোয় ধরতে পেরেছি, এতেই খুশি।’

বাস টার্মিনালে মানুষের রাজধানী ছাড়ার চিত্র দেখা যায়নি। আগের মতো দুরপ্ল্লাার গণপরিবহনে ঘরমুখো মানুষের উপচে পরা ভিড় নেই বললেই চলে।

সরেজমিন রাজধানীর দূরপাল্লার বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, বাসের টিকিট কাউন্টারগুলো ফাঁকা। কাউন্টারগুলো থেকে অগ্রিম টিকিট ছাড়াহলে আগে নাই বলে জানালেও এখন কিছু গাড়ির সিট এখনও ফাঁকা আছে বলে জানানো হচ্ছে।

রাজধানীর গাবতলী ও কল্যানপুর ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীর চাপ নেই। কাউন্টারগুলো প্রায় ফাঁকা। করোনার আগের ঈদের সময় ঘরমূখী মানুষের ঢলে বাস টার্মিনালের কাউন্টারগুলোতে পা ফেলাই কষ্টকর ছিল।কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। নিরিবিলি বসে থাকছেন কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতারা। সিমিত সংখ্যক যাত্রী ঘোরাফেরা করছেন টার্মিনালে।

ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার একদিন পরেই ২৮, ২৯ এবং ৩০ এই তিন দিনের কোনো টিকিট নেই জানালেও এখন বিক্রেতারা বলছেন, এখনও গাড়ির কিছু আসন খালি রয়েছে। সেই সঙ্গে সকাল থেকে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি বাসে দুই থেকে তিনটি করে আসন খালি গেছে।

পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের দাবি এই রকম অবস্থা আগে কোনো ঈদে দেখেননি।

ঈগল পরিবহনের ম্যানেজার সুলতান আহম্মেদ জানান, ‘গতবছর করোনা থাকলেও ২০ রোযার পরই আমাদের প্রচুর যাত্রী চাপ ছিল। টিকিট নিয়ে মারামারি লেগে যেত গাবতলী টার্মিনালে। কিন্তু এবার ফাঁকা যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, “৩৬ সিটে মাত্র ৭ জন যাত্রী নিয়ে বাস ঢাকায় আসছে। যাওয়ার সময়ও ফাঁকা গেছে। এবার মানুষের মধ্যে বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছার অভাব দেখছি।

শ্যামলী পরিবহনের ম্যানেজার প্রভাত রায় বলেন, ‘এবারের ঈদের সাথে আগের ঈদের রাতদিন পার্থক্য। আগে এই সময় জমজমাট অবস্থা থাকত। চাকরিজীবীরা পরে গেলেও তাদের পরিবার আগে পাঠিয়ে দিত। এবার অবস্থা পুরোপুরি ভিন্ন। আমাদের ২৭ তারিখ পর্যন্ত অর্ধেকের বেশি সিট খালি আছে। পরের তিন দিন টিকিট নাই। আবার ১ তারিখ খালি আছে। আর এখন বাস প্রায় ফাঁকা যাচ্ছে।’

যাত্রী খরার কথা শোনা গেল লঞ্চ মালিকদের মুখেও। তারা বলছেন, যাত্রী এখন স্বাভাবিক সময়ের থেকেও কম। যার ফলে তাদের প্রতিদিন লোকসান হচ্ছে।

পারাবত শিপিং-এর কর্ণধার ও লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ‘বিগত কোনো বছরে এরকম খারাপ যায়নি। মনে হচ্ছে এবার মানুষের মধ্যে ঈদ নিয়ে আগ্রহের ঘাটতি আছে।

বাস ও লঞ্চে ভিড় না থাকলেও গতকাল ঘরমুখো মানুষের ভিড় ছিল পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি ঘাটে।

ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের চাপ পড়েছে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরিঘাটে।

ঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক জিয়াউল হায়দার জানান, ‘ভোর থেকেই ঘাটে ছোট গাড়ি ও যানবাহনের ভিড় বাড়তে থাকে। দুপুর পর্যন্ত সংযোগ সড়কগুলো গাড়িতে ঠেসে যায়।’

বিআইডব্লিউটিসি’র শিমুলিয়া ঘাটের সহ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে একটু একটু করে ঘাটে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। শুক্রবার চাপ আরেকটু বাড়বে। চাপ সামলাতে রো রো ফেরি এনায়েতপুরী বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।’

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি নৌপথে ফেরি সঙ্কেটের কারণে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে সমান ভাবে। ফেরির জন্য অধিকাংশ ছোট গাড়ি সমূহকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই নৌ-পথে ফেরিতে বাস-বড় ট্রাক পার করা হচ্ছে না। তবে ফেরির তুলনায় লঞ্চে ও স্পিডবোডে যাত্রীরা পারাপার হচ্ছেন বেশি।

বিআইডব্লিউটিএ শিমুলিয়া ঘাটের পরিবহন পরিদর্শক মো. সোলেমান জানান, এই নৌপথে ১৫৩টি স্পিডবোট ও ৮৩টি লঞ্চ চলাচল করছে। ফেরির সংখ্যা কম থাকায় লঞ্চেই বেশি সংখ্যক যাত্রী পার হচ্ছেন। স্পিডবোট চলাচল করছে সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত এবং লঞ্চ চলাচল করবে রাত ১০টা পর্যন্ত।

মানুষ ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটেও। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় বাড়ছে এই নৌরুটে। ঘাট এলাকায় দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। ভোগান্তিতে যাত্রী ও চালকরা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্যিক বিভাগের সহকারী উপব্যবস্থাপক মহীউদ্দীন রাসেল বলেন, ‘দিনের বেলায় ঘাট এলাকা স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যার পর যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। বর্তমানে ঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেট কার ও পণ্যবাহী ট্রাক মিলে পাঁচ শতাধিক যানবাহন ফেরি পারের অপেক্ষায় রয়েছে। ছোট-বড় ২০টি ফেরি দিয়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি রাতের মধ্যেই ঘাট এলাকা স্বাভাবিক করতে পারব।’

ঈদে বাড়ির পথে যাত্রা শুরু করেছেন উত্তরবঙ্গের ৩২ জেলার মানুষ। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বেড়ে যায় যানবাহন ও যাত্রীর চাপ। মহাসড়কে গাড়ি চলছে ধীরগতিতে, এখনও যানজট লাগেনি কোথাও। তবে ভাড়া কয়েক গুণ বাড়তি আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।



আমাদের ফেসবুক পেজ
ব্রেকিং নিউজ