শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বাজেট ৯ জুন, বাড়বে না করের বোঝা: অর্থমন্ত্রী ঝড়ে স্পিডবোট ডুবি, আরও এক শিশুর লাশ উদ্ধার যুদ্ধ থামাতে পুতিনের কাছে যাচ্ছেন জাতিসংঘের মহাসচিব ‘পাতাল রেলের যাত্রীদের মাসে ভাড়া গুনতে হবে ২০-২৫ হাজার টাকা’ নিউমার্কেট বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বরিশাল নগরীর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়াকিটকি সহ ভুয়া পুলিশ আটক বাকেরগঞ্জ পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের তহশীলদার রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ।। হেলমেট পরিধান করুন নিরাপদে বাড়ি ফিরুন রজনীগন্ধার শুভেচ্ছায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ঈদে নজর স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সব দোষ বিএনপির?

ঈদে নজর স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের

অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর এই তিন মাসের মধ্যে একদিকে পড়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা, অন্যদিকে কৃষকের ঘরে ঘরে ওঠে নতুন ধান। আবার বিয়ের মৌসুমও পড়ে এ সময়ের মধ্যে। এজন্য স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছে বহুল কাঙ্ক্ষিত এই তিনটি মাস। কারণ এই সময়ের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি হয়।

এর বাইরে ঈদ ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ভালো ব্যবসা করেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। ফলে ভালো ব্যবসার জন্য বিয়ে, দুর্গাপূজা, বৈশাখ ও ঈদ এগুলোর অপেক্ষায় থাকেন অলঙ্কার বিক্রেতারা।

তবে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে গত দু’বছরে সবকিছুই ওলটপালট হয়ে গেছে। করোনার প্রকোপে জনজীবন ও অর্থনীতিতে দুর্যোগ নেমে আসে। এই সময়ের মধ্যে কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন অনেকেই। মাসের পর মাস তাদের ঘরবন্দি সময় কাটাতে হয়েছে।

ফলে ঈদ, পহেলা বৈশাখ, দুর্গাপূজা, নবান্ন এলেও সাধারণ মানুষের মতো মলিন থেকেছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মুখ। কারণ গত দু’বছরের উৎসবে মানুষ স্বর্ণ কেনার চেয়ে বিক্রি করেছেন বেশি।

তবে করোনার প্রকোপ কমে আসায় এখন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে মানুষের জীবনব্যবস্থা। তাই তো গত দু’বছরের বিষণ্নতা ভুলে আনন্দ উদযাপনে মেতেছেন উৎসবপ্রেমীরা। করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার আগে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে পহেলা বৈশাখ পালিত হতো, এবারও অনেকটাই সেই আঙ্গিকে পালিত হয়েছে বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের এই দিনটি।

করোনার ভীতি দূরে ঠেলে মানুষ উৎসবে মেতে উঠলেও স্বর্ণের অলঙ্কার বিক্রি সেভাবে জমে ওঠেনি। রোজার ভিতরে পহেলা বৈশাখ পড়ায় মানুষ অলঙ্কার কিনতে খুব একটা আগ্রহী হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। তবে গত দু’বছর উৎসবের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির যে প্রবণতা ছিল এবার তা নেই। তাই বৈশাখকেন্দ্রিক ভালো ব্যবসা না হলেও ঈদকেন্দ্রিক ভালো ব্যবসা হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মহামারি করোনার প্রকোপের কারণে গত দু’বছর মানুষ কঠিন সময় পার করেছে। এ সময় উৎসব পালন করা ভুলে মানুষ বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত ছিল। এখন করোনার প্রকোপ কমে আসায় মানুষ আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।

আসন্ন ঈদ ঘিরে এরই মধ্যে পোশাকের মার্কেটগুলো ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। যেহেতু নতুন পোশাক কিনতে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তাই ঈদে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি কিছুটা হলেও বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

তারা আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষেও অলঙ্কার বিক্রি এখনো জমে ওঠেনি। তাই ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে ভালো বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, বৈশাখে ভালো বিক্রি না হলেও স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদা যে কিছুটা বেড়েছে, তা বোঝা যায় স্বর্ণের দামের দিকে নজর দিলেই। গত ১২ এপ্রিল থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৮ হাজার ৮৪৯ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৭৪৯ টাকা বাড়িয়ে ৭৫ হাজার ৩৪৯ টাকা করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে ৬৪ হাজার ৫৬০ টাকা করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ২২৪ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫৩ হাজার ৮২৯ টাকা।

বাজুস যখন স্বর্ণের এই দাম নির্ধারণ করে তখন বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল এক হাজার ৯৫০ মার্কিন ডলারের নিচে। অথচ মার্চের প্রথমার্ধে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল দুই হাজার ২০ মার্কিন ডলারের ওপরে। তখন বাংলাদেশে সবচেয়ে ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা। সে হিসেবে বিশ্ববাজারে সম্প্রতি স্বর্ণের দাম যে হারে বেড়েছে, দেশের বাজারে বেড়েছে তার থেকে বেশি হারে।

ব্যবসা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আনাস জুয়েলার্সের ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এবার বৈশাখে তেমন বিক্রি হয়নি। আর ঈদেও বিক্রি পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। তবে গত দু’বছরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি একটু ভালো। এখন বড় প্রতিষ্ঠানের ভালো বিক্রি হচ্ছে। আমরা আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে ছোট প্রতিষ্ঠানেও ভালো বিক্রি হবে।

এ বিষয়ে শাঁখারীবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুবল বলেন, গত দুই বছর তো মানুষ উৎসব করতেই ভুলে গিয়েছিল। ঈদ ও পূজার খরচ জোগাড় করতে অনেকেই স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করেছেন। তবে এবার মানুষ অল্প হলেও স্বর্ণালঙ্কার কিনছে। আমরা আশা করছি ঈদের সপ্তাহখানেক আগে বিক্রি আরও একটু বাড়বে।

এ ব্যাপারে বাজুসের সাবেক সভাপতি ওয়াদুদ ভুইয়া বলেন, করোনা যে ক্ষতি করে দিয়ে গেছে তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। করোনার কারণে অনেকের আয়-রোজগার কমে গেছে। এখনো অনেক মানুষ কষ্টে আছেন। তবে কিছু মানুষের প্রচুর অর্থ হয়েছে। ফলে সমাজে আয়-বৈষম্য বেড়েছে। এখন যাদের টাকা আছে তারা হয় তো ঈদ উপলক্ষে কিছু স্বর্ণালঙ্কার কিনবেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ব্যবসা যে এখন ভালো হচ্ছে তাও না। হয় তো সামনের ঈদে কিছু বিক্রি হবে। যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে তাহলে আমাদের ধারণা আগামী অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর এই তিন মাসে ভালো ব্যবসা হবে। কারণ এ সময় দুর্গাপূজা ও বিয়ের মৌসুম পড়বে।

বাজুসের সাবেক আরেক সভাপতি এনামুল হক বলেন, পোশাকের মার্কেটে মানুষ যেভাবে কেনাকাটা করতে যাচ্ছে, স্বর্ণের দোকানে সেভাবে আসছে না। স্বর্ণের দাম বেশি হওয়ার কারণে মানুষ অলঙ্কার কম কিনছে। তারপরও মানুষের যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আমরা খুশি। আশা করি সামনে আরও ভালো বিক্রি হবে।

সার্বিক বিষয়ে বাজুস সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, স্বর্ণালঙ্কার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় বিয়ের মৌসুম, পহেলা বৈশাখ, ঈদ ও পূজার সময়। এবারের বৈশাখে স্বর্ণ বিক্রি কম হওয়ায় এখন আমরা ঈদের অপেক্ষায় আছি। মানুষ যেভাবে নতুন পোশাক কিনতে ছুটছে, তাতে আমরা আশাবাদী এবার স্বর্ণালঙ্কারও ভালো বিক্রি হবে।



আমাদের ফেসবুক পেজ
ব্রেকিং নিউজ