ঢাকা ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গৌরনদীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, ফায়দা হাসিলে ব্যর্থ হয়ে সক্রিয় অসাধুরা!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিয়ম-নীতির প্রতি কঠোর আনুগত্যের একটি ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলা প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সুশাসনের প্রতিফলন ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) এবং টিআর (টেস্ট রিলিফ) কর্মসূচিসহ বিভিন্ন প্রকল্প নির্ধারিত সরকারি নীতিমালা মেনেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কঠোর তদারকি বজায় রাখা হচ্ছে। উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়ন, উপকরণ ক্রয় এবং আর্থিক লেনদেনের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ ও নথিভুক্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়। ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কাজের গুণগত মানও বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

দপ্তরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা স্পষ্টভাবে জানান, এখানে কোনো ধরনের ঘুষ বাণিজ্যের সুযোগ নেই। সকল সেবা নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রদান করা হয়। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও ঠিকাদাররা কোনো প্রকার অনৈতিক চাপ বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদান ছাড়াই তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন বলেও জানা গেছে।

সম্প্রতি অফিস সহকারী মিলন বড়াল তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে বলেন, আমি কখনো কোনো ধরনের ঘুষ গ্রহণ করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না। আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করছি। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দপ্তরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বাস্তবে আমাদের সকল কার্যক্রমই সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দপ্তরের প্রতিটি কাজ নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হয় এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই। সকল পক্ষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে স্থানীয় ঠিকাদার ফারুক বলেন, আমি আমার প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করেছি এবং পরে নিয়ম মেনে বিল উত্তোলন করেছি। কোথাও কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের প্রয়োজন হয়নি।

 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা পাওয়ায় কাজ সম্পন্ন করতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি। তার এই বক্তব্য প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ইতিবাচক পরিবেশের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও উন্নয়ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নতুন রাস্তা, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হয়েছে, সময় ও খরচ কমেছে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেয়ে অনেক নিম্নআয়ের পরিবার উপকৃত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একটি মহল কর্তৃক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, সুশাসন এবং স্বচ্ছতার ধারাবাহিকতা এ ধরনের অপপ্রচারকে ম্লান করে দিচ্ছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হলেও জনগণের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণই প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে।

সার্বিকভাবে, গৌরনদী উপজেলায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ঘুষমুক্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমের যে ধারা বজায় রয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে এবং সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টা আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
1
ট্যাগস :

[ramadan_somoysuci]

গৌরনদীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, ফায়দা হাসিলে ব্যর্থ হয়ে সক্রিয় অসাধুরা!

আপডেট সময় : ০১:৩৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

 

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিয়ম-নীতির প্রতি কঠোর আনুগত্যের একটি ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলা প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সুশাসনের প্রতিফলন ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) এবং টিআর (টেস্ট রিলিফ) কর্মসূচিসহ বিভিন্ন প্রকল্প নির্ধারিত সরকারি নীতিমালা মেনেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কঠোর তদারকি বজায় রাখা হচ্ছে। উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়ন, উপকরণ ক্রয় এবং আর্থিক লেনদেনের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ ও নথিভুক্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়। ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কাজের গুণগত মানও বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

দপ্তরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা স্পষ্টভাবে জানান, এখানে কোনো ধরনের ঘুষ বাণিজ্যের সুযোগ নেই। সকল সেবা নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রদান করা হয়। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও ঠিকাদাররা কোনো প্রকার অনৈতিক চাপ বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদান ছাড়াই তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন বলেও জানা গেছে।

সম্প্রতি অফিস সহকারী মিলন বড়াল তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে বলেন, আমি কখনো কোনো ধরনের ঘুষ গ্রহণ করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না। আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করছি। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দপ্তরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বাস্তবে আমাদের সকল কার্যক্রমই সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দপ্তরের প্রতিটি কাজ নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হয় এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই। সকল পক্ষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে স্থানীয় ঠিকাদার ফারুক বলেন, আমি আমার প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করেছি এবং পরে নিয়ম মেনে বিল উত্তোলন করেছি। কোথাও কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের প্রয়োজন হয়নি।

 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা পাওয়ায় কাজ সম্পন্ন করতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি। তার এই বক্তব্য প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ইতিবাচক পরিবেশের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও উন্নয়ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নতুন রাস্তা, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হয়েছে, সময় ও খরচ কমেছে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেয়ে অনেক নিম্নআয়ের পরিবার উপকৃত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একটি মহল কর্তৃক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, সুশাসন এবং স্বচ্ছতার ধারাবাহিকতা এ ধরনের অপপ্রচারকে ম্লান করে দিচ্ছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হলেও জনগণের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণই প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে।

সার্বিকভাবে, গৌরনদী উপজেলায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ঘুষমুক্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমের যে ধারা বজায় রয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে এবং সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টা আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।