শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
এম ভি আল ওয়ালিদ-৯ লঞ্চে সন্তান প্রসব, পরিবারের জন্য আজীবন ভাড়া ফ্রী গলাচিপার কৃতি সন্তান মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি হওয়ায় আনন্দ মিছিল ও বিভিন্ন সংগঠনের অভিনন্দন। রাজৈরে ভোটঘর সোশ্যাল ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং উদ্বোধন মুন্সীগঞ্জে পুলিশের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মানিকগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চাঁদমারিতে সংঘাত-রক্তপাত, বেপরোয়া আলামিন বাহিনীর বিরুদ্ধে তিন মামলা জেলা পরিষদ নির্বাচনে কামরুলকে প্রার্থী করতে ইউপি সদস্যদের জোট উজিরপুরে ঢাকা -বরিশিল মহা সড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ২ । সাংবাদিক মাহাতাব চৌধুরীর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী পালন আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে ইন্দুরকানীতে জনপ্রতিনিধিদের সাথে সম্ভাব্য সদস্য প্রার্থী ইমরানের মতবিনিময়

চাঁদমারিতে সংঘাত-রক্তপাত, বেপরোয়া আলামিন বাহিনীর বিরুদ্ধে তিন মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করাসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি এবং মাদক বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতে বরিশাল নগরীর চাঁদামারী আলামিন বাহিনী ত্রাস সৃষ্টি করে চলছে। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিবাদকারীদের বিভিন্ন সময়ে নানানভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ থাকলেও এবার বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে ভয়াত্মক এক পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরির খবর পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং নারীসহ অন্তত ১০ জনকে প্রকাশ্যে কুপিয়েছে। বলা চলে অনেকটা ফিল্মি স্টাইলে কোতয়ালি মডেল থানাধীন চাঁদামারী ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের অদুরে এই রক্তপাতের জন্ম দিয়ে নয়া সন্ত্রাস সৃষ্টি করে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মজিবর রহমানের ক্যাডার আলামিন। এই ঘটনায় আলামিনসহ তার বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে। এর একটি মামলায় কাউন্সিলরের ছোট ভাইকেও অভিযুক্ত করা হয়।

স্থানীয় বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত করেছে- নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মজিবর রহমানের ছত্রছায়ায় থেকে আলামিন এলাকার অন্তত ২৫/৩০ যুবককে নিয়ে একটি বাহিনী গড়ে তোলে। এই বাহিনী পুরো চাঁদমারী ও আশপাশ এলাকায় মাদক বিক্রিসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি এবং জমি বিক্রেতা, নতুন ভবন মালিকদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করে আসছিল। ইতিপূর্বে তাদের এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে স্থানীয় ব্যক্তি বিশেষ লাঞ্ছিত হওয়ায় এখন আর কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাচ্ছে না। ফলে আলামিন বাহিনীর অত্যাচার চাঁদামারীতে বেড়েই চলছিল। এমনকি আলামিনের সন্ত্রাস নিয়ে স্থানীয়রা কাউন্সিলর মজিবরের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সুফল পাননি। বরং কাউন্সিলরের কাছে নালিশ করায় বেশ কয়েকজনকে প্রকাশ্য রাস্তায় বেইজ্জতি হতে হয়েছে। ইজ্জত হারানোর ভয়ে কেউ প্রতিবাদী হয়ে না ওঠায় আলামিন চাঁদামারীতে এক মুর্তিমান আতঙ্কে রুপ নেয় এবং দেদার চালিয়ে যায় মাদক বাণিজ্য-চাঁদাবাজি।

স্থানীয় সূত্রটি জানায়- সর্বশেষ আলামিন বাহিনী স্থানীয় বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান এবং তার ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এই টাকা না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে আলামিন তার অন্তত ১৫ থেকে ২০ সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ধারালো অস্ত্রসমেত ওই ব্যক্তির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করতে অগ্রসর হলে তার স্ত্রী মোসা. ফরিদা বেগম প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। এসময় যুবক আলামিনসহ তার বাহিনীর অপরাপর সদস্যরা নারীসহ বেশ কয়েকজনকে মারধরসহ কুপিয়ে জখম করে। এই খবর পেয়ে নগর বিশেষ শাখার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করলে আল আমিন বাহিনী এ পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম করে।

বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে- প্রকাশ্য রাস্তায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা ফেলে কোপানোর এই চিত্র স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা প্রত্যক্ষ করলেও কেউ ভয়ে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করার সাহস দেখায়নি। ফলে অনেকটা সিনেমেটিক স্টাইলে হামলা চালিয়ে মারধরসহ কুপিয়ে জখম করে চলে যায় আলামিন বাহিনী। তবে এর আগে স্থানীয় বাসিন্দা ও বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক সকালের বার্তা পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জলিল আকন পুলিশ কর্মকর্তাকে কোপানোর চিত্র মুঠোফোনে ধারণ করতে গেলে তার ওপরও চড়াও হয় আলামিন। এবং সাংবাদিককেও তারা কুপিয়েছে। শান্ত একটি জনপদ সশস্ত্র চালিয়ে মুহূর্তে অশান্ত করে তোলার খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই আলামিন তার বাহিনী নিয়ে স্থান ত্যাগ করে। জানা গেছে- আলামিন বাহিনীর অন্যতম সদস্য ইমন কাউন্সিলর মজিবরের ছোট ভাই।

পুলিশ সূত্রের খবর বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদমারীতে সশস্ত্র সন্ত্রাসের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় কাউন্সিলর মজিবরের ক্যাডার আলামিনসহ তার বাহিনীর ২৫ থেকে ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে নগর বিশেষ শাখার (সিটিএসবি) কর্মকর্তা কামরুল ইসলামকে কোপানোর ঘটনায় এই আলামিনসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করা হয়। এবং ব্যবসায়ীর স্ত্রী ফরিদা বেগমের মামলাটিতেও আলামিনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এমনকি সাংবাদিক জলিল আকনের মামলাটিতেও আলামিন এবং কাউন্সিলরের ভাই ইমনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে- প্রতিটি মামলায় ৩২৬, ৩০৭, ৫০৬, ১৪৩ সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ কর্মকর্তাকে কোপানোর ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদানসহ আরও বেশকিছু ধারায় অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়।

কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) মো. ছগির হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, চাঁদামারীর ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এজাহারনামীয় একজনসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবং তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়। এখন হামলাকারী বাকি আসামিদেরও ধরতে পুলিশ সদস্যরা কাজ করছে। বিশেষ করে মূলহোতা আলামিনকে জালে আনতে পুলিশ অধিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে- আলামিন যে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় মূর্তিমান এক আতঙ্ক হয়ে উঠেছে এ খবর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অবগত হয়েছে। ফলে তাকে বাগে আনতে পুলিশ এবার অনেকটা কৌশলী হয়ে মাঠে নেমেছে। সেক্ষেত্রে এই যুবকের পক্ষ নিয়ে তাকে রক্ষায় কেউ অগ্রসর হলেও সেও বেকায়দায় পড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।’



আমাদের ফেসবুক পেজ
ব্রেকিং নিউজ