শুক্রবার, ১০ জুন ২০২২, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
৭ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ গলাচিপায় দুই বরযাত্রীর মাথা কামানোর ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা ! দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৩ রুটের বাস ভাড়া নির্ধারণ শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে মাদারীপুরে মানববন্ধন। স্ত্রীকে কুপিয়ে যখম করার মামলায় স্বামীকে জেল হাজতে পাঠালো আদালত। অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে তিনজনকে সাত দিনের কারাদণ্ড রাজধানীতে গণমাধ্যমকর্মীর লাশ উদ্ধার

প্রতিরোধ কার্যক্রমে উন্নতি নেই বাংলাদেশের

ব্যবসা ও পেশার আড়ালে সংঘটিত মানি লন্ডারিং (অর্থ পাচার) ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি বাংলাদেশের। চার বছর আগে এপিজির মূল্যায়নে যে স্তরে ছিল, বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছে। তবে আইন ও বিধিবিধান প্রণয়ন এবং অর্থ পাচারের তথ্য প্রাপ্যতার দিক থেকে এক ধাপ এগিয়েছে।

অর্থ পাচার নিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। এটি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে মানদণ্ড নির্ধারণকারী আন্তর্জাতিক এ প্রতিষ্ঠানটির চতুর্থ ফলোআপ রিপোর্ট।

এপিজির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সম্প্রতি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে। এগুলো অর্থ পাচার প্রতিরোধে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত মামলার তদন্তেও ধীর গতি আছে।

প্রতিবেদনে দেখানো হয় অর্থ পাচার প্রতিরোধে ২০১৬ সালে আইন প্রণয়ন ও বিধিবিধান তৈরির ক্ষেত্রে এফএটিএফের (ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স) তৃতীয় ধাপ-পার্শিয়েলি কমপ্লায়েন্ট (পিসি) সূচকে ছিল বাংলাদেশ। ওই সময় বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে উপরে উঠতে পারেনি। তবে বিগত তিন বছরে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যে কারণে সর্বশেষ ফলোআপ প্রতিবেদনে (চার বছর পর) এক ধাপ উন্নতি হয়ে দ্বিতীয় ধাপে (এলসি বা লার্জলি কমপ্লায়েন্ট) চলে আসে। একই ভাবে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধ থাকায় সূচকের দিক থেকে তৃতীয় ধাপে (পিসি) থাকে বাংলাদেশ। এখন তা উন্নীত হয়ে দ্বিতীয় ধাপে (এলসি) এসেছে।

জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, করোনা মহামারির কারণে মানুষ বিদেশে কম যাচ্ছে, দেশ থেকে পুঁজি পাচার কমেছে। এছাড়া প্রযুক্তি বেশ উন্নতি হয়েছে। যে কারণে এখন পুঁজি পাচার কিছুটা কঠিন হচ্ছে। তবে এপিজির রিপোর্টে কিছু অংশে বলা হয়েছে বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে। আমি মনে করি, তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

একটি দেশের মানি লন্ডারি ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থা কোন পর্যায়ে আছে সেটি দুভাবে মূল্যায়ন করা হয়। একটি হচ্ছে- অবিলম্ব ফলাফল এবং দ্বিতীয়টি কারিগরি সূচক। অবিলম্ব ফলাফল প্রাপ্তি সূচক নির্ধারণ করা হয় ১১টি পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্য দিয়ে। আর কারিগরি সূচক নির্ধারণ করা হয় ৪০টি শর্ত পূরণের মধ্য দিয়ে। এ কাজটি করে থাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স (এফএটিএফ)।

এপিজি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ মানদণ্ডে ‘অবিলম্ব ফলাফল’ সূচকে ১১টি পদেক্ষেপের ক্ষেত্রে চারটিতে কোনো অগ্রগতি হয়নি বাংলাদেশের। সামান্য অর্জন হয়েছে দুটি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে। সেসব পদক্ষেপে উন্নতি হয়নি সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- রিয়েল এস্টেটসহ অ-আর্থিক ব্যবসায়িক খাত। যেমন স্বর্ণ ও পাথর ব্যবসা, স্বাধীন পেশার মধ্যে আইনজীবী, ডাক্তার নোটারি পাবলিক। এরা ক্রেতার সঙ্গে বড় বড় লেনদেন করছে। সেখান থেকে অর্থ পাচারের সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে প্রতিরোধে বড় ধরনের সফলতা নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মানি লন্ডারিং মামলাগুলোর তদন্তে আরও দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে আছে। বর্তমান এসব মামলার তদন্ত করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে তদন্ত করতে হয়। এক্ষেত্রে সমন্বয় থাকা জরুরি। কিন্তু সেটি এখনও পুরোপুরি হয়ে উঠেনি। এক্ষেত্রে আরও জোরালো কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করা হয় প্রতিবেদনে।

টেকনিক্যাল সাইট উন্নয়নে ৪০টি শর্ত দিয়েছে এফএটিএফ। এর মধ্যে চারটি শর্তে এখন খারাপ অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বৈধ আয়ের ব্যক্তিদের টাকার লেনদেন স্বচ্ছতার অভাব এবং অস্বচ্ছতা রয়েছে বিভিন্ন বৈধ চুক্তির ক্ষেত্রেও। এর মাধ্যমে তথ্য গোপন করে বড় ধরনের অর্থ বিদেশে পাচারে রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়। এছাড়া পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আইনগত জটিলতা নিরসনের বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা জারি করা হয়েছে। এই বিধিমালার আলোকে আর্থিক খাত বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আদান-প্রদান করার বিধান রাখা হয়। যা আগে ছিল না। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট মোবাইল ব্যাংকিং ও ডাকঘরের লেনদেনসহ সব ধরনের লেনদেনে গ্রাহকের সঠিক তথ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। পাশাপাশি গ্রুপভিত্তিক মানি লন্ডারিংয়ে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পৃথক কোনো বিধান ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি জারিকৃত মানি লন্ডারিং বিধিমালা এ বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 



আমাদের ফেসবুক পেজ
ব্রেকিং নিউজ