শুক্রবার, ১৭ জুন ২০২২, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কালকিনিতে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হামলায় ১০টি বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ পদ্মা সেতুতে গাড়ি নিয়ে প্রতিযোগিতা না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সাংবাদিক নোমানীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন গলাচিপা কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা বিষয়ক রোভিং সেমিনার নবীজিকে কটুক্তি করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন বরিশাল পূর্বাঞ্চলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। চরফ্যাশনে চর মাদ্রাজ ৪ নং ওয়ার্ডের রাসেল দেওয়ানের ফুটবল মার্কার উঠান বৈঠক। চট্টগ্রামে ২ মাদক পাচারকারী আটক ফরিদপুরের নিখোঁজ মুসলিম প্রেমিকাসহ হিন্দু যুবক আবাসিক হোটেলে! ভোলা চরফ্যাশনে বিশ্ব নবীকে কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার প্রতিবাদে ওলামা ও আইম্যা ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।। গলাচিপায় বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী তক্ষক সহ আটক -১

মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলার নির্বাচন

মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাত্র চারটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ের মুখ দেখতে পেরেছেন। বাকি নয়টির মধ্যে আটটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বেসরকারিভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাঁটিতে নৌকার প্রার্থীদের এমন ভরাডুবিতে হতাশ তৃণমূলের নেতা–কর্মীরা।তাঁরা বলছেন, তৃণমূল থেকে সুপারিশ করা যোগ্য প্রার্থী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় এবার সবচেয়ে বেশি ইউপিতে নৌকার প্রার্থীরা হেরে গেছেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার কালকিনি উপজেলার আটটি ও ডাসার উপজেলার পাঁচটি ইউপিতে ভোট গ্রহণ হয়। নির্বাচনে ১৩টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪৬ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৩৭৫ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নির্বাচনে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩৪ জন ভোটার ভোট দেন।

কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্থানীয় সাংসদ আবদুস সোবাহানের ভাই বি এম মিল্টন ইব্রাহীম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। বাকি সাতটি ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকার দুই প্রার্থী জয় পেয়েছেন। তাঁরা হলেন আলীনগর ইউনিয়নের সাহীদ পারভেজ ও চরদৌলতখান ইউনিয়নের চাঁনমিয়া শিকদার। বাকি পাঁচটি ইউপির চারটিতে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন। তাঁরা হলেন কয়ারিয়া ইউনিয়নে কামরুল হাসান নূর মোহাম্মদ, সাহেবরামপুরে মাহবুবুর রহিম মুরাদ সরদার, শিকারমঙ্গলে সিরাজুল আলম, বাঁশগাড়ীতে মোস্তাফিজুর রহমান ও লক্ষ্মীপুরে মৌসুমী হক। তাঁদের মধ্যে মৌসুমী হক স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

ডাসার উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে শুধু ডাসার ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম নৌকা নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বাকি চারটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী জয় পেয়েছেন। তাঁরা হলেন গোপালপুর ইউনিয়নে ফরহাদ মাতুব্বর, কাজীবাকাইতে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার, নবগ্রামে দুলাল তালুকদার ও বালিগ্রামে মজিবুর রহমান খান।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলাফলে এসেছে ১৩টি ইউপির মধ্যে ৯টিতে পরাজিত হয়েছে নৌকা। বাকিগুলোয় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।’
মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলা আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাঁটি হলেও ইউনিয়ন পরিষদে মনোনীত প্রার্থীদের ভরাডুবিতে হতাশ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীরা। তাঁরা বলছেন, মনোনয়ন–বাণিজ্য, অযোগ্য প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়া, বিএনপি-জামায়াতের সাবেক নেতাদের মনোনয়ন দেওয়াসহ নানা কারণে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করেও অধিকাংশ প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।

কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ তাহমিনা সিদ্দিকা বলেন, ‘আমরা উপজেলা আওয়ামী লীগ যাঁদের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলাম, সেটা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। সেটি নিয়ে পত্রপত্রিকায় খবর ছাপা হয়। তখনো আমরা বলেছিলাম তৃণমূল থেকে কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁর ইচ্ছেমতো টাকার বিনিময় মনোনয়ন দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়নি। পরাজয় হয়েছে মনোনয়ন–বাণিজ্যের। যাঁরা মনোনয়ন পেয়েছেন, তাঁরা টাকা ছাড়া মনোনয়ন পাননি। তাঁরা এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে মনোনয়ন কিনে এনেছিলেন। কিন্তু ভোট সুষ্ঠু হওয়ায় তাঁদের আশা নিরাশা হয়ে গেছে। নৌকা পেয়েও তাঁরা তাঁদের অযোগ্যতার কারণে হেরেছেন। আর জনগণও মনোনয়ন–বাণিজ্যের বিরুদ্ধে তাদের রায় দিয়েছে। আর যাঁরা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন, তাঁরা তো আওয়ামী লীগের অংশ। বেশির ভাগ বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী তৃণমূলের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।’



আমাদের ফেসবুক পেজ
ব্রেকিং নিউজ