সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
মধুপুরের মহিষমারা নেদুর বাজারে চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত উপকূলে জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত বন্ধুর মাথায় ডিম ভেঙে জন্মদিন পালন, আটক ৬ পণ্যর দাম বৃদ্ধিতে আন্দোলন করলে গ্রেফতার না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ঘুষ নেয়ার দায়ে টেকনাফে স্কুল শিক্ষক দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার! ছাত্রের মাকে হত্যায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে সড়কে শিক্ষার্থীরা জ্বালানি তেল, গ্যাস,বিদ্যুৎ, সারসহ নৃত্য প্রয়োজনে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল। মাদারীপুরের কালকিনীতে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার। বিপুল পরিমাণ চোলাই মদসহ নারী আটক জ্বালানি তেল ও সারের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ

সিলেটে রায়হান হত্যার বিচার শুরু

সিলেটে পুলিশ হেফাজতে রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা মামলার প্রধান আসামি বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ বরখাস্তকৃত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

সোমবার (১৮ এপ্রিল) আসামিদের উপস্থিতিতে সিলেট মহানগর দায়রা জজ মো. আব্দুর রহিমের আদালতে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট নওশাদ আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আগামী ১০ মে বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এদিন মামলার বাদী তাহমিনা আক্তার তান্নির সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

অভিযোগ গঠনকালে মামলার প্রধান আসামি সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ বহিষ্কৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ ৫ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এক আসামি পলাতক রয়েছেন।

এর আগে কয়েক দফা পিছিয়ে যায় অভিযোগ গঠনের তারিখ। সর্বশেষ গত ১২ এপ্রিল আসামিদের পক্ষে অব্যাহতির আবেদন দাখিল ও তা শুনানি না হওয়ায় অভিযোগ গঠনের তারিখ পিছিয়ে যায়।

২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে নগরের আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে ধরে নিয়ে আসে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন সকালে তিনি মারা যান।

পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে রায়হানকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এই অভিযোগের সত্যতাও মেলে।

ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর পুলিশি হেফাজত থেকে কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তবে প্রধান অভিযুক্ত আকবর ১৩ অক্টোবর পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান। এ নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে উঠলে ওই বছরের ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশ।

এদিকে এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। গত বছরের ৫ মে এই মামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য ও কমকর্তাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)।

এতে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্তকৃত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া, বরখাস্তকৃত উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসান উদ্দিন, সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, হারুনুর রশিদ ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল নোমানকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে নোমান ছাড়া সবাই কারাগারে আছেন। নোমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ হত্যাকাণ্ডের আলমত সিসিটিভির ফুটেজ সরাতে আসামিদের সহায়তা করেছেন তিনি।

চলতি বছরের ৮ মার্চ সিলেট অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে মামলাটি বিচারের জন্য সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো করা হয়।



আমাদের ফেসবুক পেজ
ব্রেকিং নিউজ