শনিবার, ১১ জুন ২০২২, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
গলাচিপায় এ কেমন শত্রুতা, গৃহপালিত প্রাণী গরু কুপিয়ে জখম ! বরিশালে লাভ ফর ফ্রেন্ডস এর উদ্দ্যাগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত ডিবিসি নিউজের সংবাদকর্মীআব্দুল বারীকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে মানববন্ধন করোনা শনাক্ত দেশে বাড়ছে দশমিনা চরবোরহানে ভোটারদের বাড়ি ঘরে গভীর রাতে হামলার অভিযোগ, নেই কোন প্রতিকার ! ৭ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ গলাচিপায় দুই বরযাত্রীর মাথা কামানোর ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা ! দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৩ রুটের বাস ভাড়া নির্ধারণ শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ

সিলেট জেলায় পানি কমলেও বাড়ছে নগরে

অনলাইন ডেস্কঃ

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে সিলেটে কোথাও বন্যার পানি কমেছে আবার কোথাও বেড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে সিলেট জেলায় বন্যার পানি সামান্য কমেছে। তবে সিলেট মহানগরে দশমিক এক সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।

জেলায় সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার ও কুশিয়ারা নদীর জকিগঞ্জের অমলসিদ পয়েন্টে দশমিক ২ সেন্টিমিটার বন্যার পানি কমেছে।

সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে পানির স্তর পরিমাপে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের প্রধান নদী সুরমা কানাইঘাট (সিলেট) পয়েন্টে দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে। তবে এখনও তা বিপৎসীমার ১৩ দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সুরমা সিলেট সদর পয়েন্টে দশমিক এক সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১১ দশমিক ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার পানির পরিমাণ ১১ দশমিক ২৬ সেন্টিমিটার ছিলো। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি অমলসিদ (সিলেটের জকিগঞ্জ) পয়েন্টে দশমিক ২ সেন্টিমিটার কমে এখন বিপৎসীমার ১৭ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ অবস্থায় সিলেট জেলা ও মহানগরের প্রায় ১৫ লাখ পানিবন্দি মানুষের মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে আছেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক, নগরের অভিজাত এলাকা খ্যাত শাহজালাল উপশহরের বাসিন্দা তাহমিনা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার দুপুর থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। পুরো এলাকায় এক ধরনের ভুতুড়ে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবার রাস্তা ও বাসাবাড়িতে হাঁটুপানি রয়েছে। এ অবস্থায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোনের চার্জ চলে যাচ্ছে, একইসঙ্গে এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও কাজ করছে না। তাই বাধ্য হয়ে বাসা ছেড়ে আমার এক আত্মীয়ের বাসায় এসে উঠেছি।

বৃহস্পতিবার (১৮ মে) দুপুরে নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ধীরে ধীরে পানি বাড়ছে। শাহজালাল উপশহর এলাকায় লোকজন প্লাস্টিকের নৌকা দিয়ে রাস্তায় চলাচল করছেন। ওই এলাকায় বিদ্যুতের একটি ফিডার পানির নিচে চলে যাওয়ায় ৫ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন রয়েছেন।

নগরের ঘাসিটুলা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বন্যার কারণে রাস্তায় হাঁটুর ওপরে পানি থাকায় কলাগাছ দিয়ে ভেলা (বুরা) তৈরি করছেন একদল মানুষ। কেউ কেউ জরুরি কাজ সারতে ভেলায় চলাচল করছেন।

এছাড়া নগরে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট পানির নিচে যাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও জলমগ্ন অবস্থায় দেখা গেছে। এতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন নগরবাসী।

এ অবস্থায় নগরের ১৫ স্কুলসহ ২২টি স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। নগরের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকজনও খাদ্য সংকটে রয়েছেন।

বুধবার নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সিলেট ফায়ার সার্ভিস অফিস, সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শকের (ডিআইজি) কার্যালয়, কোতোয়ালি থানা, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়, তোপখানা সড়ক ও জনপথ কার্যালয়, সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ি, বিদ্যুতের আঞ্চলিক কার্যালয়, দক্ষিণ সুরমা বরইকান্দি সাবস্টেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। সিলেট নগর ও উপজেলাগুলোর বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এখন পানি।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাইয়িদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। তাছাড়াও ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যেও বৃষ্টি কমছে না। তাই পাহাড়ি ঢল নামছে এবং আমাদের দেশেও পানি বাড়ছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, সরকার মানুষের পাশে রয়েছে। প্রতিদিনই বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। গতকালও মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন।

বন্যায় জেলাজুড়ে ২৫২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এসব আশ্রয়কেন্দ্রে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউএনওদের সার্বক্ষণিক নজরদারি করার নির্দেশনা দেওয়া আছে।



আমাদের ফেসবুক পেজ
ব্রেকিং নিউজ