ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাবুগঞ্জে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকবাক্সের গুরুত্ব

★কাওসার মাহমুদ মুন্না:- 
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাবুগঞ্জে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকবাক্সের
গুরুত্ব বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলায় খানপুরা অবস্থিত প্রধান ডাকঘরসহ বেশ কয়েকটি শাখা পোস্ট অফিস রয়েছে এই উপজেলাটিতে। উপজেলা প্রায় ডাকবাক্সগুলো অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। আবার কোথাও দেখা গেছে কোন ডাকবাক্স নেই।

কালের বিবর্তনে ডাকবাক্স গুরুত্ব হারিয়ে দিনের পর দিন তা জরাজীর্ণ হয়েছে। বিবর্ণ-হতশ্রী রূপ নিয়েছে গ্রাম-বাংলার ডাকবাক্সগুলো।

এক সকালে বাড়ির সামনে হঠাৎ সাইকেলের টুংটাং শব্দ। ওই চিঠি আছে বলে রানারের কাছে ছুটে যেত মানুষ।

উনিশ শতকের প্রিয়তমা দেখল তার প্রিয় সুদূর প্রবাস থেকে চিঠি লিখেছে। ‘এই যে শুনছো… নাও পত্র, বিনিময়ে দাও প্রেম।’ তখন হলদে খামে ভরা কাগজে মোড়ানো চিঠিতে এভাবেই ভালোবাসার বাক্য বিনিময় হতো। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এমন আবেগের আমেজ একটু একটু করে দূরে গেছে। ডাকঘরের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে চিঠির জায়গা এখন মেসেঞ্জারের দখলে।

সেই সময় চিঠির অপেক্ষায় মানুষ বসে থাকত। দূরের প্রিয়জনের হাতের লেখা হলুদ খাম খুলে পড়ত কেউ হাসতে হাসতে, কেউ চোখের জল ফেলতে ফেলতে। সেই চিঠির সঙ্গে যুক্ত ছিল এক টুকরো রঙিন ইতিহাস।

আজ প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষে চিঠি প্রায় হারিয়ে গেছে। আজ হয়তো এই ডিজিটাল প্রজন্মের কাছে কিছুটা অপরিচিত অনুভূতি। রানারের অদম্য পথচলা, চিঠির জন্য অধীর অপেক্ষা এবং সেই কাগজের পাতায় মিশে থাকা মানুষের না বলা কথাগুলো এখন ই-মেইল বা মেসেজের ভিড়ে হারিয়ে গেছে।

আজ খুব প্রয়োজনীয় সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ  কিছু
দাপ্তরিক চিঠি আদান-প্রদানের মাধ্যমে এই ডাকবিভাগকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এখনো ডাকবিভাগকেই সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করা হয়।

দেখা গেছে যত্ন সহকারে উপজেলার প্রধান ডাকঘরের অকেজো ডাকবাক্স মেরামতের কাজ করছে একটি ওয়ার্কসে। বাংলার ঐতিহ্য ইতিহাস প্রজন্মকে জানানোর জন্য পরিত্যক্ত ডাকবাক্স রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত করা এবং ডাক বিভাগের আরো অনেক বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার চালু করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
1
ট্যাগস :

বাবুগঞ্জে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকবাক্সের গুরুত্ব

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাবুগঞ্জে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকবাক্সের
গুরুত্ব বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলায় খানপুরা অবস্থিত প্রধান ডাকঘরসহ বেশ কয়েকটি শাখা পোস্ট অফিস রয়েছে এই উপজেলাটিতে। উপজেলা প্রায় ডাকবাক্সগুলো অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। আবার কোথাও দেখা গেছে কোন ডাকবাক্স নেই।

কালের বিবর্তনে ডাকবাক্স গুরুত্ব হারিয়ে দিনের পর দিন তা জরাজীর্ণ হয়েছে। বিবর্ণ-হতশ্রী রূপ নিয়েছে গ্রাম-বাংলার ডাকবাক্সগুলো।

এক সকালে বাড়ির সামনে হঠাৎ সাইকেলের টুংটাং শব্দ। ওই চিঠি আছে বলে রানারের কাছে ছুটে যেত মানুষ।

উনিশ শতকের প্রিয়তমা দেখল তার প্রিয় সুদূর প্রবাস থেকে চিঠি লিখেছে। ‘এই যে শুনছো… নাও পত্র, বিনিময়ে দাও প্রেম।’ তখন হলদে খামে ভরা কাগজে মোড়ানো চিঠিতে এভাবেই ভালোবাসার বাক্য বিনিময় হতো। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এমন আবেগের আমেজ একটু একটু করে দূরে গেছে। ডাকঘরের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে চিঠির জায়গা এখন মেসেঞ্জারের দখলে।

সেই সময় চিঠির অপেক্ষায় মানুষ বসে থাকত। দূরের প্রিয়জনের হাতের লেখা হলুদ খাম খুলে পড়ত কেউ হাসতে হাসতে, কেউ চোখের জল ফেলতে ফেলতে। সেই চিঠির সঙ্গে যুক্ত ছিল এক টুকরো রঙিন ইতিহাস।

আজ প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষে চিঠি প্রায় হারিয়ে গেছে। আজ হয়তো এই ডিজিটাল প্রজন্মের কাছে কিছুটা অপরিচিত অনুভূতি। রানারের অদম্য পথচলা, চিঠির জন্য অধীর অপেক্ষা এবং সেই কাগজের পাতায় মিশে থাকা মানুষের না বলা কথাগুলো এখন ই-মেইল বা মেসেজের ভিড়ে হারিয়ে গেছে।

আজ খুব প্রয়োজনীয় সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ  কিছু
দাপ্তরিক চিঠি আদান-প্রদানের মাধ্যমে এই ডাকবিভাগকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এখনো ডাকবিভাগকেই সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করা হয়।

দেখা গেছে যত্ন সহকারে উপজেলার প্রধান ডাকঘরের অকেজো ডাকবাক্স মেরামতের কাজ করছে একটি ওয়ার্কসে। বাংলার ঐতিহ্য ইতিহাস প্রজন্মকে জানানোর জন্য পরিত্যক্ত ডাকবাক্স রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত করা এবং ডাক বিভাগের আরো অনেক বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার চালু করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।