ঢাকা ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করাই হলো প্রকৃত সাংবাদিকদের কাজ- সচিব বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক পরিবহন সংস্থার ব্রাক্ষনগাঁও শাখার উদ্বোধন। ঢাকা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু’র জন্মদিন পালিত। আল-ফাতাহ ক্যাডেট মাদ্রাসায় নতুন বই বিতরণ উৎসব অনুষ্ঠিত কাল‌কি‌নি‌তে ৬০ জে‌লের মা‌ঝে বকনা বাছ‌ুর বিতরণ ডাসার ইউনিয়ন জামায়াতের অফিস উদ্বোধন গণতন্ত্রের ‘বাতিঘর’ হারিয়ে শোকস্তব্ধ চরফ্যাশনে চলছে কোরআন খতম ও দোয়া।। মাদারীপুরের তিন আসনে লড়ছেন ২৮ প্রার্থী মাদারীপুর-৩ আস‌নে ম‌নোনয়নপত্র দা‌খিল কর‌লেন ৬ এম‌পি প্রার্থী মানবতার সেবায় শামচুন নাহার ফাউন্ডেশন উত্তর দুধখালীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
সংবাদ শিরোনাম ::
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করাই হলো প্রকৃত সাংবাদিকদের কাজ- সচিব বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক পরিবহন সংস্থার ব্রাক্ষনগাঁও শাখার উদ্বোধন। ঢাকা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু’র জন্মদিন পালিত। আল-ফাতাহ ক্যাডেট মাদ্রাসায় নতুন বই বিতরণ উৎসব অনুষ্ঠিত কাল‌কি‌নি‌তে ৬০ জে‌লের মা‌ঝে বকনা বাছ‌ুর বিতরণ ডাসার ইউনিয়ন জামায়াতের অফিস উদ্বোধন গণতন্ত্রের ‘বাতিঘর’ হারিয়ে শোকস্তব্ধ চরফ্যাশনে চলছে কোরআন খতম ও দোয়া।। মাদারীপুরের তিন আসনে লড়ছেন ২৮ প্রার্থী মাদারীপুর-৩ আস‌নে ম‌নোনয়নপত্র দা‌খিল কর‌লেন ৬ এম‌পি প্রার্থী মানবতার সেবায় শামচুন নাহার ফাউন্ডেশন উত্তর দুধখালীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

মাদারীপুরে রাতের আঁধারে কবর থেকে দেহাবশেষ উধাও, এই অবিশ্বাস্য ঘটনায় স্তব্ধ এলাকাবাসী।

মাদারীপুর থেকে : সোহেল তালুকদার।
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাদারীপুরে রাতের আঁধারে কবর থেকে দেহাবশেষ উধাও, এই অবিশ্বাস্য ঘটনায় স্তব্ধ এলাকাবাসী।

মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিলো নিজ বাড়ির আঙিনায় তার কবরটি যেন দেয়া হয়। অসুস্থ থাকাকালীন সময় ছেলে,মেয়ে এবং তার নিজের ভাই বোনদের কাছে তার শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
১৬ বছর পরেও সেই ইচ্ছা রইল না মৃত সুফিয়া বেগমের।

বলছি মাদারীপুর সদরের পুরাতন বাসস্টান্ড সংলগ্ন বাগেরপর এলাকার- মৃত সাইদুর রহমান খানের স্ত্রী, মৃত সুফিয়া বেগমের কথা। সুফিয়া বেগমের রয়েছে দুই ছেলে দুই মেয়ে তিনি ইন্তেকাল করেছেন ১৬ বছর আগে।
ছেলে, মেয়েদের কাছে মিনতি করে যান তোদের বাড়ির আঙিনায় আমাকে রাখিস।
কথা অনুযায়ী বড় ছেলে টুটুলের ক্রয়কৃত জমিতে হয়েছিল সুফিয়া বেগমের শেষ ঠিকানা।
কিন্তু ১৬ বছর পর জমির লোভে ছোট ছেলে সেই মায়ের কবর রাতের আঁধারে কিছু লোকজন নিয়ে উঠিয়ে সেই অবশিষ্ট দেহাবশেষ বস্তার মধ্যে করে অন্যত্র নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে মৃত সুফিয়া বেগমের ছোট বোন হঠাৎ তার বোনের কবরের কাছে এসে দেখে কবরটি খুড়ে ফেলা হয়েছে পরবর্তীতে সে তার অন্যান্য ভাই-বোনদেরকে খবর দেন, এবং চারিদিকে খোঁজখবর নেয়ার পরে জানা যায় মাদারীপুর পৌর কবরস্থানে রাতের আঁধারে দাফন করে দিয়েছে ছোট ছেলে নেশাগ্রস্ত মুকুলের নির্দেশে।

মৃত সুফিয়া বেগমের দুই ভাই এবং চার বোন পৌর কবরস্থান ঘুরে খুঁজে বের করেন তাদের বোনের অস্তিত্ব এবং কান্না জড়িত কন্ঠে সকলে জানান- বড় ছেলে টুটুল খান দীর্ঘদিন পুরাতন বাস স্ট্যান্ডে একটি ওয়ার্কশপ চালিয়েছেন এবং কঠোর পরিশ্রম করেছেন সংসারের জন্য, অসুস্থ বাবা মা ভাই বোনের কথা চিন্তা করে পরবর্তীতে পারিজমান প্রবাসে। এবং কিছুদিন পরে স্ত্রীকে নিয়ে জান পরবাসে এবং স্বামী স্ত্রী উভয়ে মিলে কঠোর পরিশ্রম করেন সংসারের জন্য। বড় ছেলে টুটুল খান কঠোর পরিশ্রম করে তিলে তিলে বাগেরপাড়ে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করেছিলেন তার নিজের কষ্টের টাকায় ক্রয় কৃত জমিতে ছোট ভাইকে সমান ভাগ দিয়ে দলিল করেন। সংসারের বড় ছেলে টুটুল খান ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং উদার মনের তাই সে ছোট ভাইয়ের নাম দলিলে অংশীদার হিসাবে রাখেন। পরবর্তীতে ছোট ভাই মুকুলকে বিদেশে পাঠান বড় ভাই টুটুল। আস্তে আস্তে মুকুলের চারিত্রিক পরিবর্তন হতে শুরু করে, পরবর্তীতে সে দেশে এসে বিয়ে করেন এবং তারপরেই পরিবারে কলহের সৃষ্টি শুরু করে মুকুল। দলিলে নাম আছে তাই বড় ভাইয়ের কাছে তার ভাগের জমি দাবি করেন,বড় ভাই যেহেতু আগেই ছোট ভাইয়ের নাম দলিল দিয়ে রেখেছেন তাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার কমিশনার সিদ্দিক তালুকদার সহ তাদের আত্মীয়-স্বজন নিয়ে নির্দ্বিধায় জমি বন্টন করে ছোট ভাইকে অর্ধেক বুঝিয়ে দেন। ছোট ভাইয়ের ভাগের জমির মধ্যে মায়ের কবর পড়ে যায়, তখন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং তাদের মামা এবং খালারা সহ তার বড় ভাই টুটুল খান তাকে জিজ্ঞাসা করেন তোমার মায়ের কবর তোমার ভাগের জমির মধ্যে পড়েছে এই বিষয়ে তোমার কি কোন আপত্তি আছে ? তখন উত্তরে ছোট ভাই মুকুল খান বলেন না আমার জমিতে আমার মায়ের কবর থাকলে আমার কোন আপত্তি নেই।
১৬ বছর পর গত ০৬/১১ ২০২৫ ইং গভীর রাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে রাতের আঁধারে মায়ের কবর থেকে মায়ের দেহাবশেষ তুলে নিয়ে পুতে রাখেন পৌর কবরস্থানে, এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ আত্মীয়-স্বজন বলেন মৃত সুফিয়া বেগম একজন মহিলা এবং জীবিত অবস্থায় তিনি ছিলেন একজন ধার্মিক,সর্বদা পর্দা করে চলতেন তিনি। যেহেতু সে মৃত তার কবর স্থানান্তর করার জন্য ধর্মীয় কিছু নিয়ম-কানুন আছে পাশাপাশি আমরা আত্মীয়রা সবাই পাশাপাশি বাড়ি করেছি, আমাদেরকে বিষয়টি জানালে আলোচনা সাপেক্ষে একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম।
প্রবাসী বড় ছেলে কান্না জড়িত কন্ঠে মুঠোফোনে জানান প্রয়োজনে আমি আমার সম্পত্তি আমার ছোট ভাইকে সব দিয়ে দিতাম তারপরও আমার মাকে আমি এভাবে বস্তাবন্দি করে কোথাও নিতে দিতাম না। কিন্তু তিনি তার নিজের মর্জি অনুযায়ী রাতের আঁধারে এই কাজ করেছে।
এই কাজটি নিঃসন্দেহে ধর্মীয় এবং সামাজিক ভাবে চরম অপরাধ এবং ছেলে জাতির কলঙ্ক।
এই ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি করার সাহস কেউ না পায় এই জন্য এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত ছেলে সহ কবর যারা ঘুরে স্থানান্তর করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এবং পৌর কবরস্থানের দায়িত্বে যিনি আছেন তিনি বিষয়টি তদন্ত না করেই এভাবে কেন দেহাবশেষ দাফন করার অনুমতি দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে পৌরসভা প্রশাসকের কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
আমার মায়ের শেষ ইচ্ছে ছিল ছেলেদের বাড়ির আঙিনায় থাকার,তাই সেই কবর যেন আবার আগের জায়গাতে এনে তাকে দাফন করা হয় এই দাবি জানাই মাদারীপুর প্রশাসনের কাছে।
তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে আরো বলেন- আমি নিজের টাকায় জমি কিনে তাকে স্বেচ্ছায় নিজের জমির ভাগ দেই, তাতে আমি কোন আপত্তি করিনি, সে যদি আমার কাছে আরো জমি অথবা আমার বাড়িও চাইতো আমি তাকে লিখে দিতাম কিন্তু ১৬ বছর পর আমার মায়ের এই পরিণতি আমার সহ্য হচ্ছে না আপনারা সমাজের যারা আছেন দয়া করে এর সুষ্ঠু বিচার করবেন। আইনের কাছে আমার আবেদন এইভাবে রাতের আধারে আমার মাকে কেন পরপুরুষ দিয়ে বস্তা বন্দী করে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হলো। তিনি আরো বলেন বিগত দিনে আমার ছোট ভাই মুকুল আমার নির্মানাধীন বাড়ির অর্ধেক দখল করে রেখেছে, এমনকি আমার ক্রয় করা মোটর সাইকেলটি সে জোরপূর্বক নিয়ে যায়।
তারপরেও আমি ছোট ভাইকে কিছুই বলিনি।
সবচাইতে বড় কারণ সে নিয়মিত নেশাগ্রস্ত ছিল আর নেশাগ্রস্ত মানুষ যে কোন কিছু ঘটিয়ে ফেলতে পারে তাই তার থেকে আমি সাবধানতা অবলম্বন করে থাকতাম।
আমি আমার স্ত্রী সন্তান নিয়ে প্রবাসে আছি আর তাই বাড়ির যে অর্ধেক ফাঁকা রয়েছে সেখানে আমি ভাড়াটিয়া উঠাই,কিন্তু কোন ভাড়াটিয়া আমার বাসায় থাকতে পারে না কারণ আমার ছোট ভাই ভাড়াটিয়াদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে এবং ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ আমার ছোটভাই মুকুল ভাড়াটিয়াদের জানালা দিয়ে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে উঁকি ঝুঁকি দেয়, তাই বাসায় কোন ভাড়াটিয়া থাকে না।
বাড়িতে অনেক ফলের গাছ রয়েছে, প্রচুর ফলফলাদি হলেও আমি তা কখনো ছুঁয়ে দেখতেও পারি না।
আর তাই মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে, সমাজের কাছে এবং প্রশাসনের কাছে- সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে আমি দাবি জানাচ্ছি আমার ছোট ভাইকে শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং আমার মায়ের কবর আগের জায়গায় আনা হোক সেই সাথে আমার নির্মানাধীন বাড়ি থেকে তাকে নেমে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হোক।
সেই সাথে মৃত সুফিয়া বেগমের দুই ভাই এবং চার বোন সহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন সুফিয়া বেগমের ছোট ছেলে মুকুলের বিচারের দাবি জানান।
এই বিষয়কে কেন্দ্র করে -মৃত সুফিয়া বেগমের ভাই দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার, মাদারীপুর সদর মডেল থানায়, ছোট ছেলে মুকুলের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
1
ট্যাগস :

মাদারীপুরে রাতের আঁধারে কবর থেকে দেহাবশেষ উধাও, এই অবিশ্বাস্য ঘটনায় স্তব্ধ এলাকাবাসী।

আপডেট সময় : ১০:১৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

মাদারীপুরে রাতের আঁধারে কবর থেকে দেহাবশেষ উধাও, এই অবিশ্বাস্য ঘটনায় স্তব্ধ এলাকাবাসী।

মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিলো নিজ বাড়ির আঙিনায় তার কবরটি যেন দেয়া হয়। অসুস্থ থাকাকালীন সময় ছেলে,মেয়ে এবং তার নিজের ভাই বোনদের কাছে তার শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
১৬ বছর পরেও সেই ইচ্ছা রইল না মৃত সুফিয়া বেগমের।

বলছি মাদারীপুর সদরের পুরাতন বাসস্টান্ড সংলগ্ন বাগেরপর এলাকার- মৃত সাইদুর রহমান খানের স্ত্রী, মৃত সুফিয়া বেগমের কথা। সুফিয়া বেগমের রয়েছে দুই ছেলে দুই মেয়ে তিনি ইন্তেকাল করেছেন ১৬ বছর আগে।
ছেলে, মেয়েদের কাছে মিনতি করে যান তোদের বাড়ির আঙিনায় আমাকে রাখিস।
কথা অনুযায়ী বড় ছেলে টুটুলের ক্রয়কৃত জমিতে হয়েছিল সুফিয়া বেগমের শেষ ঠিকানা।
কিন্তু ১৬ বছর পর জমির লোভে ছোট ছেলে সেই মায়ের কবর রাতের আঁধারে কিছু লোকজন নিয়ে উঠিয়ে সেই অবশিষ্ট দেহাবশেষ বস্তার মধ্যে করে অন্যত্র নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে মৃত সুফিয়া বেগমের ছোট বোন হঠাৎ তার বোনের কবরের কাছে এসে দেখে কবরটি খুড়ে ফেলা হয়েছে পরবর্তীতে সে তার অন্যান্য ভাই-বোনদেরকে খবর দেন, এবং চারিদিকে খোঁজখবর নেয়ার পরে জানা যায় মাদারীপুর পৌর কবরস্থানে রাতের আঁধারে দাফন করে দিয়েছে ছোট ছেলে নেশাগ্রস্ত মুকুলের নির্দেশে।

মৃত সুফিয়া বেগমের দুই ভাই এবং চার বোন পৌর কবরস্থান ঘুরে খুঁজে বের করেন তাদের বোনের অস্তিত্ব এবং কান্না জড়িত কন্ঠে সকলে জানান- বড় ছেলে টুটুল খান দীর্ঘদিন পুরাতন বাস স্ট্যান্ডে একটি ওয়ার্কশপ চালিয়েছেন এবং কঠোর পরিশ্রম করেছেন সংসারের জন্য, অসুস্থ বাবা মা ভাই বোনের কথা চিন্তা করে পরবর্তীতে পারিজমান প্রবাসে। এবং কিছুদিন পরে স্ত্রীকে নিয়ে জান পরবাসে এবং স্বামী স্ত্রী উভয়ে মিলে কঠোর পরিশ্রম করেন সংসারের জন্য। বড় ছেলে টুটুল খান কঠোর পরিশ্রম করে তিলে তিলে বাগেরপাড়ে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করেছিলেন তার নিজের কষ্টের টাকায় ক্রয় কৃত জমিতে ছোট ভাইকে সমান ভাগ দিয়ে দলিল করেন। সংসারের বড় ছেলে টুটুল খান ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং উদার মনের তাই সে ছোট ভাইয়ের নাম দলিলে অংশীদার হিসাবে রাখেন। পরবর্তীতে ছোট ভাই মুকুলকে বিদেশে পাঠান বড় ভাই টুটুল। আস্তে আস্তে মুকুলের চারিত্রিক পরিবর্তন হতে শুরু করে, পরবর্তীতে সে দেশে এসে বিয়ে করেন এবং তারপরেই পরিবারে কলহের সৃষ্টি শুরু করে মুকুল। দলিলে নাম আছে তাই বড় ভাইয়ের কাছে তার ভাগের জমি দাবি করেন,বড় ভাই যেহেতু আগেই ছোট ভাইয়ের নাম দলিল দিয়ে রেখেছেন তাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার কমিশনার সিদ্দিক তালুকদার সহ তাদের আত্মীয়-স্বজন নিয়ে নির্দ্বিধায় জমি বন্টন করে ছোট ভাইকে অর্ধেক বুঝিয়ে দেন। ছোট ভাইয়ের ভাগের জমির মধ্যে মায়ের কবর পড়ে যায়, তখন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং তাদের মামা এবং খালারা সহ তার বড় ভাই টুটুল খান তাকে জিজ্ঞাসা করেন তোমার মায়ের কবর তোমার ভাগের জমির মধ্যে পড়েছে এই বিষয়ে তোমার কি কোন আপত্তি আছে ? তখন উত্তরে ছোট ভাই মুকুল খান বলেন না আমার জমিতে আমার মায়ের কবর থাকলে আমার কোন আপত্তি নেই।
১৬ বছর পর গত ০৬/১১ ২০২৫ ইং গভীর রাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে রাতের আঁধারে মায়ের কবর থেকে মায়ের দেহাবশেষ তুলে নিয়ে পুতে রাখেন পৌর কবরস্থানে, এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ আত্মীয়-স্বজন বলেন মৃত সুফিয়া বেগম একজন মহিলা এবং জীবিত অবস্থায় তিনি ছিলেন একজন ধার্মিক,সর্বদা পর্দা করে চলতেন তিনি। যেহেতু সে মৃত তার কবর স্থানান্তর করার জন্য ধর্মীয় কিছু নিয়ম-কানুন আছে পাশাপাশি আমরা আত্মীয়রা সবাই পাশাপাশি বাড়ি করেছি, আমাদেরকে বিষয়টি জানালে আলোচনা সাপেক্ষে একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম।
প্রবাসী বড় ছেলে কান্না জড়িত কন্ঠে মুঠোফোনে জানান প্রয়োজনে আমি আমার সম্পত্তি আমার ছোট ভাইকে সব দিয়ে দিতাম তারপরও আমার মাকে আমি এভাবে বস্তাবন্দি করে কোথাও নিতে দিতাম না। কিন্তু তিনি তার নিজের মর্জি অনুযায়ী রাতের আঁধারে এই কাজ করেছে।
এই কাজটি নিঃসন্দেহে ধর্মীয় এবং সামাজিক ভাবে চরম অপরাধ এবং ছেলে জাতির কলঙ্ক।
এই ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি করার সাহস কেউ না পায় এই জন্য এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত ছেলে সহ কবর যারা ঘুরে স্থানান্তর করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এবং পৌর কবরস্থানের দায়িত্বে যিনি আছেন তিনি বিষয়টি তদন্ত না করেই এভাবে কেন দেহাবশেষ দাফন করার অনুমতি দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে পৌরসভা প্রশাসকের কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
আমার মায়ের শেষ ইচ্ছে ছিল ছেলেদের বাড়ির আঙিনায় থাকার,তাই সেই কবর যেন আবার আগের জায়গাতে এনে তাকে দাফন করা হয় এই দাবি জানাই মাদারীপুর প্রশাসনের কাছে।
তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে আরো বলেন- আমি নিজের টাকায় জমি কিনে তাকে স্বেচ্ছায় নিজের জমির ভাগ দেই, তাতে আমি কোন আপত্তি করিনি, সে যদি আমার কাছে আরো জমি অথবা আমার বাড়িও চাইতো আমি তাকে লিখে দিতাম কিন্তু ১৬ বছর পর আমার মায়ের এই পরিণতি আমার সহ্য হচ্ছে না আপনারা সমাজের যারা আছেন দয়া করে এর সুষ্ঠু বিচার করবেন। আইনের কাছে আমার আবেদন এইভাবে রাতের আধারে আমার মাকে কেন পরপুরুষ দিয়ে বস্তা বন্দী করে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হলো। তিনি আরো বলেন বিগত দিনে আমার ছোট ভাই মুকুল আমার নির্মানাধীন বাড়ির অর্ধেক দখল করে রেখেছে, এমনকি আমার ক্রয় করা মোটর সাইকেলটি সে জোরপূর্বক নিয়ে যায়।
তারপরেও আমি ছোট ভাইকে কিছুই বলিনি।
সবচাইতে বড় কারণ সে নিয়মিত নেশাগ্রস্ত ছিল আর নেশাগ্রস্ত মানুষ যে কোন কিছু ঘটিয়ে ফেলতে পারে তাই তার থেকে আমি সাবধানতা অবলম্বন করে থাকতাম।
আমি আমার স্ত্রী সন্তান নিয়ে প্রবাসে আছি আর তাই বাড়ির যে অর্ধেক ফাঁকা রয়েছে সেখানে আমি ভাড়াটিয়া উঠাই,কিন্তু কোন ভাড়াটিয়া আমার বাসায় থাকতে পারে না কারণ আমার ছোট ভাই ভাড়াটিয়াদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে এবং ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ আমার ছোটভাই মুকুল ভাড়াটিয়াদের জানালা দিয়ে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে উঁকি ঝুঁকি দেয়, তাই বাসায় কোন ভাড়াটিয়া থাকে না।
বাড়িতে অনেক ফলের গাছ রয়েছে, প্রচুর ফলফলাদি হলেও আমি তা কখনো ছুঁয়ে দেখতেও পারি না।
আর তাই মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে, সমাজের কাছে এবং প্রশাসনের কাছে- সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে আমি দাবি জানাচ্ছি আমার ছোট ভাইকে শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং আমার মায়ের কবর আগের জায়গায় আনা হোক সেই সাথে আমার নির্মানাধীন বাড়ি থেকে তাকে নেমে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হোক।
সেই সাথে মৃত সুফিয়া বেগমের দুই ভাই এবং চার বোন সহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন সুফিয়া বেগমের ছোট ছেলে মুকুলের বিচারের দাবি জানান।
এই বিষয়কে কেন্দ্র করে -মৃত সুফিয়া বেগমের ভাই দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার, মাদারীপুর সদর মডেল থানায়, ছোট ছেলে মুকুলের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।