ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নলছিটিতে দুদকের অভিযান, খাদ্য গুদামের ১টি সিলগালা

মিলন কান্তি দাস নলচছিটি ঝালকাঠি
  • আপডেট সময় : ০৯:০৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৩ ৬৫ বার পড়া হয়েছে
সময়কাল এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নলছিটি খাদ্যগুদামে গুদাম কর্মকর্তা’র( ওসি এলএসডি) অনিয়মের অভিযোগে খাদ্য গুদামে অভিযান চালায় পিরোজপুরের দুদকের একটি দল। এ সময় দুদক দল খাদ্য গুদামের ২ নম্বর গুদামটি সিলগালা করে দিয়েছে।

২ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুদকের সমন্বিত কার্যালয় পিরোজপুর’র উপ-পরিচালক ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের উপস্থিতিতে এ গুদামটি সিলগালা করে দেন।
জানা গেছে, বোরো মৌসুমে নলছিটি খাদ্য গুদামে দুই হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য ছিলো। কিন্তু খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ এর মধ্যে ১৬০ মেট্রিক টন আমন মৌসুমের চাল অবৈধভাবে সংরক্ষণ করেছেন। চক্রটি আমন মৌসুমের সময় এ গুদাম থেকে সরবরাহকৃত চাল অবৈধভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে কিনে রেখে গুদামে রেখে দেয়। বোরো মৌসুমে সরকার নির্ধারিত ৪৪ টাকা দরে কেনা চালের সঙ্গে ওই চাল রেখে দেন নলছিটি খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো.আবুল কালাম। ১৬০ মেট্রিক টন ( সারে ৫ হাজার বস্তা) চাল যার বাজার মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি অবৈধভাবে ওই চাল গুদামে সংরক্ষণ করেন খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা কালাম। খাদ্য বিভাগের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিধি মোতাবেক বোরো মৌসুমে আমন মৌসুমের কোনো চাল এ খাদ্য গুদামে থাকার কথা নয়। স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে দুদকের সমন্বিত কার্যালয় পিরোজপুরের উপ-পরিচালক শেখ গোলাম মাওলার নেতৃত্বে দুদকের একটি টিম এ অভিযান চালায়। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নলছিটি খাদ্য গুদামে অভিযান শুরু করেন। এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালায়। অভিযানের সময় আমন মৌসুমের বেশ কয়েক বস্তা চাল এ খাদ্যগুদামে পায় দুদক দল। অভিযানের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হোসাইন। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় অভিযান স্থগিত করেন। ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের উপস্থিতিতে দুদকের উপপরিচালক খাদ্য গুদামের ২ নম্বর গুদামটি সিলগালা করে দেন । বৃহস্পতিবার ফের গুদামের সমস্ত চাল যাচাই বাছাই করা হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।
এব্যাপারে নলছিটি খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা( ওসি এলএসডি) মো. আবুল কালাম সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযান পরিচলনাকারী দুদকের উপপরিচালক শেখ গোলাম মাওলা সংবাদিকদের বলেন বিষয়টি সম্পর্কে এখনই কোন মন্তব্য করা যাবে না। যেহেতু গুদামের সমস্ত চাল যাচাই বাছাই করতে আরও সময় লাগবে। আপাতত আমরা গুদাম সিলগালা করে দিয়েছি বৃহস্পতিবার ফের কাজ শুরু করবো। তিনি আরও বলেন অভিযানকালে এ গুদামে আমন মৌসুমের বেশ কয়েক বস্তা চাল পাওয়া গেছে। ফলে প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নলছিটিতে দুদকের অভিযান, খাদ্য গুদামের ১টি সিলগালা

আপডেট সময় : ০৯:০৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৩

নলছিটি খাদ্যগুদামে গুদাম কর্মকর্তা’র( ওসি এলএসডি) অনিয়মের অভিযোগে খাদ্য গুদামে অভিযান চালায় পিরোজপুরের দুদকের একটি দল। এ সময় দুদক দল খাদ্য গুদামের ২ নম্বর গুদামটি সিলগালা করে দিয়েছে।

২ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুদকের সমন্বিত কার্যালয় পিরোজপুর’র উপ-পরিচালক ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের উপস্থিতিতে এ গুদামটি সিলগালা করে দেন।
জানা গেছে, বোরো মৌসুমে নলছিটি খাদ্য গুদামে দুই হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য ছিলো। কিন্তু খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ এর মধ্যে ১৬০ মেট্রিক টন আমন মৌসুমের চাল অবৈধভাবে সংরক্ষণ করেছেন। চক্রটি আমন মৌসুমের সময় এ গুদাম থেকে সরবরাহকৃত চাল অবৈধভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে কিনে রেখে গুদামে রেখে দেয়। বোরো মৌসুমে সরকার নির্ধারিত ৪৪ টাকা দরে কেনা চালের সঙ্গে ওই চাল রেখে দেন নলছিটি খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো.আবুল কালাম। ১৬০ মেট্রিক টন ( সারে ৫ হাজার বস্তা) চাল যার বাজার মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি অবৈধভাবে ওই চাল গুদামে সংরক্ষণ করেন খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা কালাম। খাদ্য বিভাগের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিধি মোতাবেক বোরো মৌসুমে আমন মৌসুমের কোনো চাল এ খাদ্য গুদামে থাকার কথা নয়। স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে দুদকের সমন্বিত কার্যালয় পিরোজপুরের উপ-পরিচালক শেখ গোলাম মাওলার নেতৃত্বে দুদকের একটি টিম এ অভিযান চালায়। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নলছিটি খাদ্য গুদামে অভিযান শুরু করেন। এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালায়। অভিযানের সময় আমন মৌসুমের বেশ কয়েক বস্তা চাল এ খাদ্যগুদামে পায় দুদক দল। অভিযানের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হোসাইন। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় অভিযান স্থগিত করেন। ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের উপস্থিতিতে দুদকের উপপরিচালক খাদ্য গুদামের ২ নম্বর গুদামটি সিলগালা করে দেন । বৃহস্পতিবার ফের গুদামের সমস্ত চাল যাচাই বাছাই করা হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।
এব্যাপারে নলছিটি খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা( ওসি এলএসডি) মো. আবুল কালাম সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযান পরিচলনাকারী দুদকের উপপরিচালক শেখ গোলাম মাওলা সংবাদিকদের বলেন বিষয়টি সম্পর্কে এখনই কোন মন্তব্য করা যাবে না। যেহেতু গুদামের সমস্ত চাল যাচাই বাছাই করতে আরও সময় লাগবে। আপাতত আমরা গুদাম সিলগালা করে দিয়েছি বৃহস্পতিবার ফের কাজ শুরু করবো। তিনি আরও বলেন অভিযানকালে এ গুদামে আমন মৌসুমের বেশ কয়েক বস্তা চাল পাওয়া গেছে। ফলে প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।