ঢাকা ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রুটি ও ডিম পড়া খেয়ে ১ জন গুরুতর অসুস্থ, ফকির গ্রেফতার

মাদারীপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ৮০ বার পড়া হয়েছে
সময়কাল এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফকিরের রুটি ও ডিম পড়া খেয়ে ১ জন গুরুতর অসুস্থ, ফকির গ্রেফতার
কালকিনিতে কথিত কবিরাজের রুটিপড়া খেয়ে এক ব্যবসায়ী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় ভন্ড কবিরাজ ইস্রাফিল শেখ কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের বসত বাড়ি থেকে কবিরাজকে গ্রেপ্তার করে বলে এক সংবাদ সম্মেলন জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

গ্রেপ্তারকৃত ইস্রাফিল শেখ গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের রাজ্জাক শেখের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরেই কবিরাজি করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ২৫ আগষ্ট রাতে কালকিনির রামচন্দ্রপুর বাজারের ব্যবসায়ী দুলাল শিকদার ও মামুন শিকদারের দোকানে চুরি হয়। এই ঘটনায় পাশের দোকানি জাহিদুল ইসলামকে দায়ী করা হয়। এতে তীব্র প্রতিবাদ জানান জাহিদুল ইসলাম। পরে রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বাজারের পাশে একটি মাদ্রাসা মাঠে আয়োজন করা হয় কবিরাজের রুটিপড়া খাওয়ার। উপস্থিত সন্দেহভাজন অর্ধশত মানুষকে কথিত কবিরাজের দেয়া একটি করে রুটিপড়া খাওয়ান দুলাল হোসেন ও মামুন হোসেন।

ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামকে একে একে দুটি রুটি ও একটি ডিম খাওয়ানো হলে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এই ঘটনা পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ জাহিদুল ইসলামের স্বজনদের। পরে এই ঘটনায় কালকিনি থানায় জাহিদুলের পরিবার অভিযোগ দায়ের করলে মাদারীপুর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে ভন্ড কবিরাজ ইস্রাফিল শেখকে মুকসুদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মো: মামুন মিয়া।

রুটিপড়া খাওয়ার ঘটনায় ভন্ড কবিরাজ ইস্রাফিল ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছিল, যা গোয়েন্দা পুলিশ কবিরাজের কাছ থেকে উদ্ধার করে তা জব্দ করে বলে সংবাদ সম্মেলন জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। ২০০৯ সালে পটুয়াখালীতে একই ধরনের প্রতারণা করে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার বাবার কাছে এ কবিরাজি শিখছে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রুটি ও ডিম পড়া খেয়ে ১ জন গুরুতর অসুস্থ, ফকির গ্রেফতার

আপডেট সময় : ১০:২৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ফকিরের রুটি ও ডিম পড়া খেয়ে ১ জন গুরুতর অসুস্থ, ফকির গ্রেফতার
কালকিনিতে কথিত কবিরাজের রুটিপড়া খেয়ে এক ব্যবসায়ী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় ভন্ড কবিরাজ ইস্রাফিল শেখ কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের বসত বাড়ি থেকে কবিরাজকে গ্রেপ্তার করে বলে এক সংবাদ সম্মেলন জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

গ্রেপ্তারকৃত ইস্রাফিল শেখ গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের রাজ্জাক শেখের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরেই কবিরাজি করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ২৫ আগষ্ট রাতে কালকিনির রামচন্দ্রপুর বাজারের ব্যবসায়ী দুলাল শিকদার ও মামুন শিকদারের দোকানে চুরি হয়। এই ঘটনায় পাশের দোকানি জাহিদুল ইসলামকে দায়ী করা হয়। এতে তীব্র প্রতিবাদ জানান জাহিদুল ইসলাম। পরে রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বাজারের পাশে একটি মাদ্রাসা মাঠে আয়োজন করা হয় কবিরাজের রুটিপড়া খাওয়ার। উপস্থিত সন্দেহভাজন অর্ধশত মানুষকে কথিত কবিরাজের দেয়া একটি করে রুটিপড়া খাওয়ান দুলাল হোসেন ও মামুন হোসেন।

ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামকে একে একে দুটি রুটি ও একটি ডিম খাওয়ানো হলে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এই ঘটনা পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ জাহিদুল ইসলামের স্বজনদের। পরে এই ঘটনায় কালকিনি থানায় জাহিদুলের পরিবার অভিযোগ দায়ের করলে মাদারীপুর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে ভন্ড কবিরাজ ইস্রাফিল শেখকে মুকসুদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মো: মামুন মিয়া।

রুটিপড়া খাওয়ার ঘটনায় ভন্ড কবিরাজ ইস্রাফিল ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছিল, যা গোয়েন্দা পুলিশ কবিরাজের কাছ থেকে উদ্ধার করে তা জব্দ করে বলে সংবাদ সম্মেলন জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। ২০০৯ সালে পটুয়াখালীতে একই ধরনের প্রতারণা করে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার বাবার কাছে এ কবিরাজি শিখছে বলে জানান তিনি।