বরিশালে জজ কোর্টের সামনে হামলা, আহত নারী-থানায় এজাহার
- আপডেট সময় : ০২:২৪:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

বরিশালে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদালত চত্বরের সামনে এক ব্যক্তি ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে মারধর, গুরুতর জখম ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. বশির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি কোতয়ালী মডেল থানায় ৯ জনকে আসামি করে এজাহার দিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বরিশাল নগরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ফজলুল হক এভিনিউ জজ কোর্টের গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিষয়টি তাতক্ষনিক বিজ্ঞ আদালতের বিচারক অবহিত হলে থানায় মামলা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।
এজাহারে আসামি করা হয়েছে-মো. মোর্শেদ (৩০), মো. ফেরদাউস হাওলাদার (৪০), আনিচ খান (৪৫), পান্না হাওলাদার (৩৮), আ. বারেক হাওলাদার (৬০), নাঈম (২৮), তুলি বেগম (৩২), জোসনা বেগম (৩৫) ও লাকি আক্তার (৩৫)। তাদের সবার ঠিকানা বরিশালের রাজারচর এলাকার বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী মো. বশির উদ্দিন অভিযোগ করেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আসামিদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় ঝগড়া-বিবাদ ও মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আসামিরা বাদীর পরিবারের সদস্যদের মারধর করেন এবং পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নম্বর ৭৭, তারিখ ২৯-০৭-২০২৬ এবং জিআর নম্বর ৫১৪/২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মামলার ধার্য তারিখে বাদী, সাক্ষী ও আসামিরা আদালতে হাজির হন।
বাদীর অভিযোগ, আদালতের কার্যক্রম শেষে তিনি কয়েকজন সাক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়ে জজ কোর্টের গেটের সামনে পৌঁছালে আসামিরা তাদের পথরোধ করে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় ১ নম্বর আসামি মো. মোর্শেদ লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ১ নম্বর সাক্ষী ইয়াসমিন বেগমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় ও রক্তক্ষরণ শুরু হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অন্যান্য আসামিরা কয়েকজন সাক্ষীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কয়েকজন নারী সাক্ষীর পরিহিত কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগও আনা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ঘটনার সময় আদালতে আসা লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে আসামিরা ভবিষ্যতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরে আহত ইয়াসমিন বেগমকে চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় বাদী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
তবে এজাহারে করা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মামুন উল ইসলাম জানান, যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।















