মাদারীপুরে প্রতিবেশীর আগুন নেভাতে গিয়ে ‘উপকারীই’ এখন মামলার আসামি!
- আপডেট সময় : ১০:৫১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

মাদারীপুর সদর উপজেলার চরমুগরিয়া এলাকায় পূর্ব শত্রুতা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবেশীর ঘরে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে উল্টো সেই আগুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি হয়েছেন এক ব্যবসায়ী, তার ভাই ও সন্তান। এমনকি এই মামলায় এক যুবককে জেলহাজতেও যেতে হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে চরমুগরিয়া বাজারের বাসিন্দা আঃ জলিল মোল্লার একটি টিনের ঘরে হঠাৎ আগুন লাগে। ঘরটি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন রেন্টু নামের এক ব্যক্তি। অগ্নিকাণ্ডের সময় রেন্টু বা তার পরিবারের কেউ ঘরে ছিলেন না এবং ঘরটি তালাবদ্ধ ছিল। জলিল মোল্লার এই টিনের ঘরটির ঠিক পাশেই অবস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ী ইদ্রিস মোল্লার একটি বহুতল ফ্ল্যাট বিল্ডিং।সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলে ইদ্রিস মোল্লা, তার ভাই রফিক মোল্লা, ছেলে আরিফ মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যরা এবং আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একই সময় ইদ্রিস মোল্লার পুত্রবধূ ফায়ার সার্ভিসকে মুঠোফোনে খবর দেন। পরবর্তীতে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে তার আগেই টিনের ঘরটি ও ভেতরের মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সবার তৎপরতায় আগুন পাশের ইদ্রিস মোল্লার ভবন বা অন্য কোনো বাড়িতে ছড়াতে পারেনি। কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি।এ বিষয়ে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের গ্রুপ লিডার অ্যালেক্স রোজারিও জানান, প্রাথমিক ধারণামতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিন্ন মোড় নেয় পরিস্থিতি। ঘর মালিক আঃ জলিল মোল্লা বাদী হয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ এনে প্রতিবেশী ইদ্রিস মোল্লা, তার ভাই রফিক মোল্লা ও ছেলে আরিফ মোল্লাকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ইদ্রিস মোল্লার ছেলে আরিফ মোল্লাকে ইতিমধ্যে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী আঃ কাইয়ুম শেখের স্ত্রী সেলিনা আক্তার জানান, “ঘরটি তালাবদ্ধ ছিল, তাই কীভাবে আগুন লেগেছে তা নিশ্চিত বলা অসম্ভব। তবে আগুন লাগার পর সবার আগে ইদ্রিস মোল্লা ও তার পরিবারের লোকজনই আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। ইদ্রিস মোল্লার পুত্রবধূ নিজে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করেন এবং আগুন নেভাতে গিয়ে রক্তাক্ত জখমও হন। অথচ জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে আজ তাদেরই মিথ্যা মামলায় ফাঁসান হলো, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “ইদ্রিস মোল্লারা যদি সেদিন বুক দিয়ে আগুন না ঠেকাতেন, তবে ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই পুরো এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারতো। তাছাড়া আগুন ছড়ালে সবার আগে ক্ষতি হতো ইদ্রিস মোল্লার নিজের বহুতল ভবনের। নিজের ভবনের পাশে কেউ নিজে আগুন দেবে—এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। এই মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক।”এই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার কবল থেকে মুক্তি পেতে এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংবাদকর্মীদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।
০১.০৭.২০২৬














